গাজা মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে

 

        দাতব্য সংস্থার দেওয়া রান্না করা খাবারের জন্য ফিলিস্তিনিদের ভিড়। এ সময় কাঁদতে দেখা যায়         এক শিশুকে। আজ মঙ্গলবার গাজা নগরীতে

গাজায় মানবিক ঘাট নির্মাণের জন্য আমেরিকান জাহাজ যখন আটলান্টিক মহাসাগর পার হচ্ছিল, তখন ২৫শে মার্চ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ রমজান মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিলে আমেরিকান কূটনীতিকরা তাদের ভেটো স্থগিত রাখেন, যা ৯ই এপ্রিল শেষ হবে। আমেরিকার জাহাজ পাঠানো এবং এই কূটনৈতিক তিরস্কার ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনার প্রতি রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান হতাশার পাশাপাশি গাজার ২২ লক্ষ বাসিন্দার অনেকেই জরুরি সাহায্য না পেলে অনাহারে থাকবে এই উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়।


        গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে ফিলিস্তিনি শিশুরা

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার পাশাপাশি তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন গাজার বাসিন্দারা। অনাহার-অর্ধাহারে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে উপত্যকাটির অসহায় শিশুদের। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২১ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের সময় উপত্যকাটিতে অপুষ্টিতে ভুগে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮০ জনই শিশু।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, অপুষ্টিতে ভুগে মারা যাওয়া ১০১ জনের মধ্যে আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। তাঁদের মধ্যে ১২ জন শিশু। গাজায় বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ মানুষ ক্ষুধায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া। এর মধ্যে ৭০ হাজার শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

https://steelreproach.com/wfyk87wd8?key=f9eded3a31f4801077393a544beeed23

গাজায় বর্তমানে একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। খুব সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে জাতিসংঘের ত্রাণ। সেখানেও চলছে লুটপাট। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রগুলোতে খাবার সংগ্রহ করতে দিয়ে নির্বিচার গুলির মুখে পড়ছেন ফিলিস্তিনিরা। ৭ মে থেকে ত্রাণকেন্দ্রগুলোর কাছে হত্যা করা হয়েছে ১ হাজারের বেশি মানুষকে।

শুধু গাজার বাসিন্দারা নয়, অনাহারে ভুগছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউর কর্মী ও চিকিৎসকেরাও। সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, অনাহার ও অবসাদের কারণে তাঁদের অনেক কর্মী ও চিকিৎসক কাজ করতে করতে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন। কর্মীদের কাছ থেকে এমন ঘটনার কয়েক ডজন বার্তা পেয়েছেন তিনি।


Post a Comment

Previous Post Next Post